গুড়াকৃমি

ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

সাধারণ স্বাস্থ্যজ্ঞান

ইংরেজীতে গুড়াকৃমিকে বলা হয় পিনওয়ার্ম। ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় এন্টারোবিয়াস ভার্মিকুলারিস। আধা ইঞ্চির চেয়েও কম সাইজের সাদা রংগের ছোট ছোট কৃমি সাধারণত ছোটদেরকে আক্রান্ত করে। মানুষের পেটের ক্ষুদ্রান্তে এদের বসবাস। বোয়াল মাছ যেমন ডিম পারার জন্য উজানের পানিতে চলে যায় তেমনি এই কৃমিও ডিম পারার জন্য সন্ধার সময় পেট থেকে বের হয়ে পায়ুপথের চারিপাশে চামড়ার ভাজে ভাজে ডিম পেড়ে পেটের ভিতর চলে যায়। ডিম পাড়ার স্থানে চুলকাকানি হয়। তাই শিশুরা পায়ুপথের আশে পাশে সন্ধার পর চুলকাকাতে থাকে। রাতে ঘুমের বেঘাত হয়।

চুলকানোর সময় শিশুর আংগুলে কৃমির ডিম লেগে আসে। আংগুলে ডিম ৩/৪ ঘন্টা বেচে থাকে। আংগুল থেকে জামা কাপড় খেলনা ও আসবাবপত্রে ডিম ছড়িয়ে পরে। শুক্না ডিম বাতাসেও উড়ে। এভাবে বাড়ির অন্যদের নাক মুখ দিয়ে ডিম পেটে চলে যায় এবং অন্যরা আক্রান্ত হয়। পেটে গিয়ে ডিম ফুটে কৃমির বাচ্চা বের হয় এবং বড় হয়ে আবার ডিম পাড়ে। নিজের হাত নাক মুখে দিয়ে শিশু নিজের দ্বারাই আক্রান্ত হতে পারে।

যেহেতু বাহিরে এসে ডিম পাড়ে সেহেতু মল পরীক্ষা করলে মলে এই ক্রিমির ডিম পাওয়া যাবে না।

দুই বৎসর বা তার চেয়ে বড়দের জন্য ১০০ মিলিগ্রাম মেবেন্ডাজল ট্যাবলেট ১ টি খেলেই গুড়াকৃমি ভাল হয়ে যায়। দুই সপ্তাহ পর আরও ১ টি খেতে হয়। আক্রান্ত পরিবারের সকলকেই এই ঔষধ এক যোগে খেতে হয়।

নিয়মিত ভাল করে হাত ধোবার অভ্যাস ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে এই কৃমির সংক্রমন কম হবে।


২/৬/২০১৭



সুচিপত্র
প্রকাশিত মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর, কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনভাবেই দায়ী নন
কপিরাইট © ২০০৩-২০১৮, ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Google Ads