<

ছেলেদের শরীরে কি আছে যা মেয়েদের নাই?


(সাধারণ স্বাস্থ্য জ্ঞান)

ডাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

মানুষের শরীর অসংখ্য ছোট ছোট কোষ দিয়ে তৈরি। এই কোষের ভিতর থাকে নিউক্লিয়াস। ছেলেদের অণ্ডকোষে জার্ম সেল নামে একপ্রকার কোষ থাকে যেগুলি থেকে স্পার্মাটোজোয়া বা শুক্রানু নামে এক প্রকার ব্যাংগের পোনার মত পোনা তৈরি হয়। মেয়েদের পেটে ডিম্বাধারে জার্ম সেল নামে এক প্রকার কোষ থাকে যে গুলি দিয়ে ডিম্বানু তৈরি হয়। জার্ম সেল ছাড়া শরীরের অন্যান্য কোষকে সোমাটিক কোষ বলে। নিউক্লিয়াসে সুতার মত এক প্রকার জিনিষ থাকে এগুলিকে বলা হয় ক্রমোজম। ক্রমোজম দুই রকম আছে। ইংরেজি Y অক্ষরের মত দেখতে যেগুলি সেগুলি হল Y ক্রমোজম। ইংরেজি অক্ষর X এর মত দেখতে যেগুলি সেগুলি হল X ক্রমোজম। স্পার্মাটোজোয়াতে ২৩ টি শুধু Y অথবা শুধু X থাকে। ডিম্বতে ২৩টি শুধু X থাকে। স্পার্মাটোজোয়া ও ডিম্ব মিলিত হয়ে যে কোষ তৈরি হয় সেই কোষে হয় ২৩ জোড়া XY না হয় ২৩ জোড়া XX ক্রমোজম থাকে। এই মিলিত কোষ বিভাজন হতে হতে বড় হয়ে মানুষের আকার ধারন করে। জরায়ুর ভিতর সন্তান বড় হয়ে নির্দিষ্ট সময় পর ভুমিষ্ঠ হয়।

ওয়াই ক্রমোজমের জিনের প্রভাবে যে হরমোন তৈরি হয় সেই হরমোনের প্রভাবে সন্তানের শরীরে পুরুষের অংগের বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। এক্স ক্রমোজমের প্রভাবে যে হর্মোন তৈরি হয় তার প্রভাবে সন্তানের শরীরে মেয়েদের অংগের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।

ইসলাম ধর্ম মতে আল্লাহ মাটির উপাদান দিয়ে প্রথম মানব হযরত আদম (আ:) কে তৈরি করেন। তিনি পুরুষ ছিলেন। এরপর আদম (আ:) এর শরীর থেকে প্রথম মহিলা মা হাওয়া(আ:)কে তৈরি করেন। এরপর আদম ও হাওয়ার যৌন মিলনের ফলে শুক্রানু ও ডিম্বাণুর নিশিক্ত করনের মাধ্যমে তার মেয়ে ও ছেলে সন্তান জন্মলাভ করে। এই ভাবে বংশ পরম্পরায় মানুষ জন্ম হয়ে সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে আজ পৃথিবী ভরে গেছে।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হিসাবে বলা যায় আদমের সোমাটিক কোষে সম পরিমাণ এক্স ও ওয়াই ক্রমজোম ছিল। তারথেকে যখন হাওয়াকে বানান হয় তখন হাওয়ার শরীরে শুধু এক্স ক্রমোজম যায়। শুধু এক্স ক্রমোজমের প্রভাবে হাওয়ার শরীর মেয়েলি হয় এবং সভাবও মেয়েলি হয়। ওয়াইএর প্রভাবে আদমের শরীর ও মন পুরুষের মত হয়। অর্থাৎ সকল আদর্শ পুরুষ হবে আদমের মত আর সকল আদর্শ মেয়ে হবে হাওয়ার মত। আদর্শ পুরুষের শরীরে সমান সংখ্যক এক্স ও ওয়াই ক্রমোজম থাকবে। আদর্শ মেয়ের শরীরে সবগুলি এক্স ক্রমোজম থাকবে। এক্স ক্রমোজমের প্রভাবে মেয়েরা লাজুক হয়। পুরুষের শরীরে অর্ধেক এক্স ক্রমোজম থাকে তাই তারা কম লাজুক হয়। কোন পুরুষের শরীরে পরিমানের চেয়ে যদি ওয়াই ক্রমোজম কম থাকে তবে তার চেহারা ও আচরনে মেয়েলি ভাব থাকে। এদের বলা হয় পুরুষ হিজরা। কোন মেয়ের শরীরে যদি কিছু ওয়াই ক্রমোজম থাকে তবে সে কিছুটা পুরুষের মত দেখতে হয় এবং কিছুটা পুরুষের মত আচরন করে। এদের বলা হয় মেয়ে হিজরা বা গুরমা। যেসব পুরুষের শরীরে সামান্য কিছু এক্স ক্রমোজম বেশী থাকে তারা সামান্য মেয়েলি আচরণ করে। যেমন একটু কোমর দুলিয়ে হাটে, বা কানে একটি টব পরে, চোখে সুরমা দেয় বা হাতে চুড়ি পরে। যেসব মেয়ের শরীরে সামান্য কিছু ওয়াই ক্রমোজম আছে তারা একটু ছেলেমি করে। যেমন উচ্চ স্বরে কথা বলে,বীর দর্পে হাটে, ছেলেদের মত জামা পরতে পছন্দ করে।

তবে আদর্শ একজন মেয়ের শরীরে ওয়াই ক্রমোজম নাই। আদর্শ একজন ছেলের শরীরে সমান সংখ্যক এক্স ও ওয়াই ক্রমোজম থাকে। যদি প্রশ্ন করি ছেলেদের শরীরে এমন কি আছে যা মেয়েদের শরীরে নাই? উত্তর হবে ওয়াই ক্রমোজম। মেয়েদের শরীরে শুধু এক্স ক্রমোজম থাকে। এক্স (X) অক্ষরের একটি পা না থাকলে ওয়াই (Y) অক্ষর হয়। অন্যভাবে বলা যায় ছেলেদের শরীরের অর্ধেক ক্রমোজমের একটি পা নাই। তাই তারা ছেলের মতো করে।


১/১২/২০১৭


সুচিপত্র
প্রকাশিত মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর, কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনভাবেই দায়ী নন
কপিরাইট © ২০০৩-২০১৮, ডাঃ সাদেকুল ইসলাম তালুকদার - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Google Ads